১)ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীঃ পাবনা জেলার এ সূর্যসন্তান জন্মগ্রহন করেন তৎকালীন পাবনা ও বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার  রতনকান্দি ইউনিয়নে। তবে তিনি তার কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহ করেছেন পাবনা জেলা সদরে। তিনি মুজিবনগর সরকারে অর্থ, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রীর ভূমিকা পালন করেন। তিনি একজন সফল আইনজীবী ছিলেন ও পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ডের ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং ‘ক্যাপ্টেন মনসুর’ নামে অধিক পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার একনিষ্ঠতা , সততা ও দক্ষতার জন্য ১৯৭৪ সালে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ১৯৭৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিনজন জাতীয় নেতার সাথে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

২) ডঃ ফজলে রাব্বীঃ পাবনা জেলার এ কৃতি সন্তান ১৯৪৮ সালে পাবনা জেলা স্কুল হতে মেট্রিক ও ১৯৫০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে  আইএসসি পাশ করেন।তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ  হতে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস পাশ করেন। তিনি একজন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন ও ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৫ই ডিসেম্বর রাজাকার আল-বদর দের কয়েকটি দল পাকিস্তানি সৈন্য সহ তাকে তুলে নিয়ে যান ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। ১৮ই ডিসেম্বর শহীদ ডাঃ ফজলে রাব্বির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

৩) সুচিত্রা সেনঃ কিংবদন্তি এ অভিনেত্রী  ১৯৩১ সালের ৬ই এপ্রিল পাবনা জেলা সদরে জন্মগ্রহন করেন। বাংলা চল্চচিত্র তার মত প্রতিভাবান অভিনেত্রী খুব কম জন্ম নিয়েছেন বিশেষত উত্তম কুমারের সাথে জুটি বেধে করা তার প্রতিটি চলচ্চিত্র অনবদ্য। বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বিখ্যাত এ অভিনেত্রীর অভিনীত কয়েকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র হলো- হারানো সুর, সপ্তপদী, সাত পাকে বাঁধা, দ্বীপ জ্বেলে যাই।

৪)স্যামসন এইচ চৌধুরীঃ পাবনা জেলার বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও শিল্পপতি। স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।

৫)প্রমথ চৌধুরীঃকবি,অধ্যাপক,প্রাবন্ধিক ও লেখক। বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক । তিনি চাট্মোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।’সবুজপত্র’ পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা গদ্যে চলিত রীতি চালু করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে ইটালীয় সনেট চালু করেন। গল্পকার হিসেবে ও তার খ্যাতি আছে। তার বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ হলোঃ বীরবলের হালখাতা, তেল নুন লাকড়ী,রায়তের কথা, চার ইয়ারী কথা, সনেট পঞ্চাশৎ প্রভৃতি ।

৬) বন্দে আলী মিয়াঃ পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি কবি, ওউপন্যাসিক,চিত্রকর ও শিশু সাহিত্যিক।তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘ময়নামতির চর’।

৭) এ কে খন্দকারঃ এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা । তিনি মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চীফ অফ স্টাফ ছিলেন।তিনি পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

৮)দাউদ হায়দারঃ বাংলাদেশী কবি, লেখক  ও সাহিত্যিক। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘জন্ম আমার আজন্ম পাপ’।

৯) সোহানী হোসেনঃইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও নারী উদ্যোক্তা । পাবনার বেশ কিছু ব্যাতিক্রমধর্মী ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান তার সৃজনশীল চিন্তাধারা ও সাহসী বিনিয়োগের ফসল। এছাড়া তিনি একজন সফল শিল্পী, কবি, গীতিকার ও গল্পকার। উত্তরবঙ্গের সর্বপ্রথম (এবং জানামতে) একমাত্র পাঁচ তারকা হোটেল রত্নদ্বীপ রিসোর্ট তার অক্লান্ত শ্রম ও বিনিয়োগের ফসল।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *